দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছার পর শুক্রবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। কম দামে কেনার সুযোগ কাজে লাগাতে বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হওয়ায় দাম বাড়ার এ প্রবণতা দেখা যায়। তবে সাপ্তাহিক হিসাবে মূল্যবান ধাতুটির দাম এখনো নিম্নমুখী। এ নিয়ে বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে পতনের মুখে স্বর্ণ। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল সকালে স্বর্ণের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৫৫ ডলার ৬০ সেন্টে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ২৬৩ ডলার ৯০ সেন্ট। এর আগে গত সপ্তাহে ধাতুটির দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দাম বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ ‘বার্গেন হান্টিং’—অর্থাৎ স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় অনেকেই তা কিনে রাখছেন। অনেক বিনিয়োগকারী আশা করছেন দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের চাহিদা শক্তিশালী থাকবে।
স্যাকসো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘স্বর্ণের দাম এখনো সর্বোচ্চ দামের তুলনায় কয়েকশ ডলার কম। এ অবস্থায় অনেক বিনিয়োগকারী বাজারমুখী হচ্ছেন। তারা মনে করছেন স্বর্ণের চাহিদা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।’
এদিকে বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পেরোলস রিপোর্ট বা চাকরির তথ্যের দিকে, যা স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতের দিকে প্রকাশ হওয়ার কথা। এ প্রতিবেদন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের অবস্থা ও ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
রয়টার্সের এক জরিপে বলা হয়েছে, এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা মার্চের ২ লাখ ২৮ হাজারের চেয়ে অনেক কম। যদি চাকরির সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়, তাহলে ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমাতে পারে। এতে স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। সাধারণভাবে সুদহার কমার সম্ভাবনা বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কারণ তখন স্বর্ণ মজুদ রাখার খরচও কমে যায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নতির সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক নিয়ে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে ও বেইজিং আলোচনার জন্য প্রস্তুত। এ পরিস্থিতিতে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে নেয়ার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ এখনো ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ইউবিএস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয়, বিনিয়োগ চাহিদা ও ডলারের বিকল্প ব্যবস্থার কারণে স্বর্ণের প্রতি দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা টিকে থাকবে। যারা স্বর্ণে এখনো পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেননি, তারা এ দামের পতনকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম আউন্সপ্রতি দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩২ ডলার ৫৭ সেন্ট, প্লাটিনামের ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬৮ ডলার ২৩ সেন্ট ও প্যালাডিয়ামের দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৪৩ ডলার ২৩ সেন্ট।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদে দাম ওঠানামা করলেও স্বর্ণ বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার সময়ে এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে রয়ে যাবে।